ব্রেকিং >>
ব্রেকিং >>

জ্বালানি আমদানির অর্থে টান, দুর্বল ব্যাংকে আটকে বিপিসির ১,৮৮৮ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | 17 বার পঠিত | প্রিন্ট

জ্বালানি আমদানির অর্থে টান, দুর্বল ব্যাংকে আটকে বিপিসির ১,৮৮৮ কোটি টাকা
Responsive Ad Banner

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে গিয়ে বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং দেশের বাজারে নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের কারণে গত কয়েক মাসে বিপুল লোকসান গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানকে। এর সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপিসির বড় অঙ্কের অর্থ আটকে থাকায় জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধেও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাভুক্ত পাঁচ ব্যাংকেই রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

Responsive Ad Banner

বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আটকে থাকা অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়া গেলে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধে সৃষ্ট চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও বিবেচনাধীন রয়েছে।

বিপিসির হিসাব বলছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ আটকে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে বিপিসির ৭৫৩ কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংকে ২২৭ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে ২০৯ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে ১০ কোটি এবং এক্সিম ব্যাংকে ১৫৭ কোটি টাকা আটকে আছে।

সব মিলিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাভুক্ত এই পাঁচ ব্যাংকেই বিপিসির আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

এর বাইরে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে প্রায় ২২ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকে ১৪৮ কোটি, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে ১৩৩ কোটি এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কাছে আরও ২২৯ কোটি টাকা অবরুদ্ধ রয়েছে।

বিপিসির বর্তমান তহবিল সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে জ্বালানি তেলে ভর্তুকির বিষয়টি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বিপিসির লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা।

ধারাবাহিক এই লোকসানের প্রভাব পড়েছে বিপিসির হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণেও। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ বিপিসির হাতে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৮৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে লোকসান অব্যাহত থাকায় ১৩ সেপ্টেম্বর সেই অর্থ নেমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭৯০ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।

এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বিপিসি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে হাতে থাকা ব্যবহারযোগ্য অর্থের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা স্বাভাবিক রাখতে বিপিসিকে সাধারণত প্রায় দুই মাসের জ্বালানি তেলের মূল্য সমপরিমাণ অর্থ চলতি মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা।

বিপিসির একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ৪০টি এলসির বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে রাখা হয়েছে। এরপরও ওই এলসিগুলোর বিপরীতে আরও ১ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে।

এই ঘাটতি পূরণ করতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা বিপিসির ১ হাজার ৮৮৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অবমুক্ত করে তা সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি তেলে ভর্তুকির চাপ কমাতে সম্প্রতি দাম বাড়িয়েছে সরকার। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি পুরোপুরি অনুসরণ করা হলে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২০৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারত। কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করায় সরকারকে এখনো প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন জানিয়েছেন, জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বিপিসিকে ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, সমস্যাগ্রস্ত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপিসির ১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার বেশি আটকে রয়েছে। এই অর্থ দ্রুত ছাড়ের পাশাপাশি সরকারের নির্ধারিত ভর্তুকির অর্থ পাওয়া গেলে বিপিসির তহবিলের ওপর তৈরি হওয়া চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো উভয়ই সরকারি প্রতিষ্ঠান। তাই বিষয়টি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; সরকারের উচ্চপর্যায়েও এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

এ অবস্থায় দেশের জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং বিপিসির চলতি মূলধনের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা অর্থ কীভাবে এবং কত দ্রুত অবমুক্ত করা যায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Facebook Comments Box

Posted ৯:৩১ পিএম | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

মো. সাজিদ খান প্রধান সম্পাদক
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com